Skip to main content

Posts

সুপ্ততাপ

মানুষের কঙ্কালে গন্ধ ভাসে যায় শেওলায় পঁচে যাওয়া করোটিকার ফাঁকেতে। এখনো দেখা যায় কণিকার কালো ছাপ। আম্যাইনো বলে দেয়, ভালো নেই বাম পাশ। অশনির শরীরের বাসা বেঁধে শকুনি শকুনের পিঠে চড়ে নেমে আসে শনিদেব! মহাকাল যজ্ঞে পুষ্পিত হল প্রাণ। ভুলে গেলে অপ্সরা? মর্ত্যের দাপটে; অসুর ও দেব হয়, পূজা হয় প্রদ্বীপে! যে পূজা অনাচার ডেকে আনে সংহার কারণ ও পিয়ে নেয় সন্ধির ছলনায়। ভিজে যাওয়া রক্তে লাল হয় তিলকটা, আর কত যজ্ঞে শেষ হবে এই খেলা। প্রলয় কি এসে গেছে? ফুঁ হীন শিঙ্গায়? : আর কত যোগ হলে গুণফল শুণ্য, লীলাবতী চলে গেছেন অঙ্ক শিখিয়ে, সিদ্ধির গন্ধে আসেছে কি উন্মাদ? কৈলাস ঠিকে আছে ডমুরুর তালে তালে !
Recent posts

অচেনা

----------অচেনা ----------- আমিতো প্রেমিক নই,বেশি ভালবাসতে পারব না। যেদিন পুরুষ হব ; সাথে নিব রাঙা বশির হাঁটে। কবুতরের বিয়ে হবে, দেখব লাল শালিকের ঝাঁকে। লেবুর বনে সন্ধ্যাবেলায় দেখব বাতাসের নাচন। : আমিতো প্রেমিক নয়,বিরহের কাঙালি, কবে বেচে দিয়েছি নিজেই জানি না, লুকানো। যেদিন পুরুষ হব, সাথে নিব চারকির মেলায়। বাদামের গন্ধে খুঁজে নিব তোমার বিনি বাঁধা চুল। বেঁধে গলায় চড়াব তুলসী,আঙ্গুলে আঁটা সুতোয়। তোমার সাথে ভাগ করব আরো নতুন বিরহ। চোখে অভিযোগের শকুন,চেশা জগা তালের রসে। : যেদিন পুরুষ হব, দেখো তোমাকেই নিয়ে যাব দোয়াবে। লজ্জাবতীর কাঁটায় রাঙাবে পা,বুলবুলিও হাসবে সেদিন। বকফুলের বাঁকে বাঁকে দেখা যাবে জোনাকি, সন্ধ্যা প্রদ্বীপ ছুঁয়ে যাবে জল,ফিরে আসা খাঁচায়। : যেদিন পুরুষ হব, একটু জল দিও সাথে। সাগরের তেষ্ঠায় দেব বৃষ্টি,হাঙ্গের মত ঘ্রাণ। ----------------------১৯/০২/১৮

গুপ্ত প্রেম

গুপ্ত প্রেমে আমি এখনো মজে, সকাল থেকে কি চিৎকার। নদীর তো আলো নেই। চোরা স্রোত কিংবা বালি ভাসাচ্ছে। ভাসবে আবার ভাসাবে, নিয়ে যাবে বুকে স্রোতকে মিলিয়ে। । এই তো এভাবেই যাবে, আর কিছু গোপন থাকবে। না বলার মাঝে, না বলার ভঙ্গিমায়। অচেনাকে চির আপন করে চেনাতে। : বৃষ্টি কিন্তু আমি দেখি না, যখন ছুঁয়ে দেয়, অনুভূতি বলে, " এই তো বয়ে পড়ছে, আমার অস্তিত্বের প্রতি আবরণ"। আর গঙ্গায় গিয়ে মিশে সমস্ত বিলাস। : গুপ্ত প্রেমের প্রতীক আমি, প্রেম যে নশ্বর, ঈশ্বর বলেনি তো! এরপর ও বিনাশী হয়ে উঠে। হয়ে ওঠে অদম্য, চির অচেনা রুপে। যে আমি আমি মরে গেছে, সকালের ধার ঘেঁষে। অমাবশ্যায় মরা কঠালের স্রোতে ভেসে। তেজস্বিনীর বিরুপ রুপে। মেঘময় আগুণে, চাপা কয়লায়। : মনে পড়ছে ভোর অতীতের কথা, কিন্তু পাশে কেউ নেই। মনে পড়ছে শুভ্র মিতালীর কথা, এক পায়ে দৌড়,কিংবা টানা ঝগড়ার কথা, কিন্তু কি অদ্ভুত, এখন যে পাশে কেউ নেই। শব্দের মত বিলীন হচ্ছে আমার সমস্ত আমি। : ------------- ২৩/১০/১৭ -------------------- সুজন রুদ্র

অদ্ভুত রমরমা

------অদ্ভুত রমরমা-------- বুকে কি অদ্ভুত আগুণ! এই বুঝি পুড়ে যাবে সব, জাতের মান গেল লুকানো চোখে। কিন্তু প্রেম রয়ে গেল চোখাচোখি, বেশরম  রমরমা দৃষ্টিতে। : দোষের ঘাড়ে পা দিল জনতা। কি সুন্দর গান ছুঁয়ে নিল মন। পাশের চোখেই হল সর্বনাশ আঁড় চোখের কোপে গেল ভেসে। : তবু প্রেম রয়ে গেল লুকোচুরির ছবিতে মিষ্টি হাসিতে আর বয়সের ফাঁসিতে। থাক, মিশে সব অন্ধকারে বাঁধানো রিক্সায়, হালকা ছোঁয়ায় ঠাণ্ডা আইসক্রিমের চামচে। : বৃষ্টির বলগায় টেনে নেয়া হাতে, প্রেম চলে যাবে বন্ধুর হাত ধরে দূরে আরো দূরে! কাছাকাছির টানে, উম্মুখ ইশারায়। : আমাদের বয়সে সব কিছু ছুটি দিল। মন থেকে মুঁছে দিল হাহাকার হাসিতে। প্রেম চলুক গরগর রিক্সায় আলোতে, বৃষ্টির পানিতে। -------------------- -------------------- ১১/০৮/১৭ ---------------------- সুজন রুদ্র।

বসে ভাব বসে ভাব

ক্ষুধা আর আমি মোরা ভাই ভাই, দিন সেচে নিয়ে রাত পাল্টায়। ধান,চাল ক্ষুদ নেই মালিকানা, পেটে আছে মুখ হা তিন খান। গোলমাল করো নাক, রাত হলে নাক, ঘুমখানি ডাক। ধুঁকে ধুঁকে সবাই মরো না, সস্থায় জল দোকানে রেখো না; বসে ভাব, বসে ভাব, বসে ভাব-----। : আমাদের হাতে তোমাদের ঠিকানা, ঠিক ঠিক সব হিসাব মেরো না, গালি মাখামাখি, পাঠ বানী সব আমাদের কাছে দু'বার বলো না। বিক্রি করো দাও তোমাদের কথা কথার গোলে হয় মাথা ব্যাথা, গোলমাল করো নাক। বৃষ্টির জলে সস্থায় কিনা, এইজলের যে নেই মালিকানা, হাঁক ডাকাডাকি, বেয়াদবি সব মিটমিট হেসো নাক । বসে ভাব বসে ভাব বসে ভাব---। : আমরা আছি ঠেলা গান ধরে, সকাল রাত্রি তিন বেলা করে। ভোর থেকে ভোর দু,দন্ড ঘরনী, তেল ভেজে মাছ, মাখে ফুলদানি ছেলের সিঁথি বাক দিকে রেখো, মেয়ের জুতোয়,নীল ফিতে দেখো। নিজের ছেলের ফুটো তিন খানা, গোপনীয়তার নেই তাল কানা। সস্থায় ডাল, প্রশ্ন করো নাক, চুপি চুপি আধ খাওয়া ছুটি। রাতে বেলা বাবুদের রুটি, জল দিয়ে ঢেকুর মেরো না, বসে ভাব বসে ভাব বসে ভাব-------। : আলতো ঘাঁতে শরীর চেতে না, কাটা কাটা দাগে কিচ্ছু হয় না। আল কাট আল মুখে জবাবে, ...

জীবন মানে

------জীবন মানে ------ ------------------------ জীবন মানে জীবনের জন্য উল্টো পথে হাঁটা; সোজা পথে চলার শপথ, নতুবা শপথের জন্য মরা। জীবন মানে আমার ইচ্ছাকে গলা টিপে খুন করা ; আবার ইচ্ছার জন্য ভাল কিছু অভিনয়। জীবন মানে নিজের সাথে অভিনয়। অভিনয় না করার প্রতিশ্রুতি, হাজার হাজার প্রতিশ্রুতি না ভাঙার প্রতিশ্রুতি ; নিজেকে নতুন ভাবে গড়া। জীবন মানে নিজেকে বার বার ভাঙা; ভাঙতে ভাঙতে আবার নতুন কিছু। জীবন মানে প্রতিদিন সব কিছু নতুন ; নতুনের মাঝে পুরাতনের খোঁজে, পুরাতনের সাথে নতুনকে আলাদা করার আপ্রাণ অভিপ্রায়। : জীবন মানে লম্বা একটা রানওয়ে, একটা পথ মাড়িয়ে আরেক পথের খোঁজে; বাঁকে বাঁকে পথের হদিস, হাটতে হাটতে নিজের পথের শেষ টানা। জীবন মানে হাটা, ক্লান্তির হাটুতে ভাঁজ দিয়ে জিরানো; কারো হাত ধরে আবার উঠে দাঁড়ানো। : জীবন মানে নারী,কয়েকটা কবিতা; শরীরের টানে শরীর খোঁজা। জীবন মানে মাঝ রাতে ঘর্মাক্ত ক্লান্তি, জোয়ান বয়সের লাল নীল পদ্মের টানাটানি। নীলের মাঝে লাল খোঁজা, লালের মাঝে নীল হারানো। জীবন মানে নীল সাগর, যেখানে চলার শেষ হবে না, ডুবে না যাওয়া, আমি সাঁতার জানি সেই ভরসায়, ডুবে ...

ভুলতে ভুলতে

শেষ দেখা হয়ে গেছে অনেক আগে, তখন আমি যৌবনের ভারে শিশু। কালো কাজলের ফাঁকে খুঁজেছিলাম অন্ধকার; গভীরতার তীক্ষ্ন চাপে দলিত ছেলেমানুষ। ছোঁয়ার আঁড়ালে আঁকড়েছি লাল-কালো দাগ মিশে গেছে পিঠের ভাঁজে ভাঁজে, হাতের নখ আঁচড়ে দিয়েছে সব কিছু। এরপর মনে রাখার নামে ভুলে গেছে অনেকবার। : ভুলতে ভুলতে সময় আমাকে যথেষ্ট ভুলে গেছে, আকাশের সীমায় প্রতিধ্বনিত হয় বজ্রপাত। বুকের হাঁড় গুলো এক জায়গায় জড়ো হয়ে গেছে ভাঙা হাড়ে সব শব্দ আটকে গেছে। আটকে গেছে অনেক কিছু, মুখোমুখি। বাধ ভেঙে যায়; কিন্তু বাধা? সে-ত নিত্য, আমন্ত্রন পেতে রেখেছে। : মাক্স,লেলিনের যুক্তির সামনে বিশ্বাস ঠুনকো, পাঠ কাটির ধোঁয়া আর ছাই মিশানো। শরীর আমাকে কোন দিন টানে নি, নেশার ঘোরে  মাতালে ও নয়। কিন্তু কি অদ্ভুত, বিশ্বাস টেনে নিয়ে শরীরটাকে  মুখাগ্নি মুখোমুখি, পুড়বে, ছাই আর ধোয়া ছড়াবে। আকাশের সীমায়, বাধ্য করা ক্ষমার চাবুকে। : আবার মনে রাখার নামে বার বার ভুলে যাবার নেশায় মেতেছি। ভুলার নামে নাটকের মঞ্চে আমি একা, হাত তালির বিকট শব্দে কান ফেটে যাচ্ছে। কি অদ্ভুত!  সামনে কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। : -----------( সংক্ষিপ্ত...